মিশর নয়, পৃথিবীর প্রাচীনতম মমিদের বাসস্থান চিলি

পিরামিডের দেশ মিশরকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। আর তার অন্যতম কারণ হল এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের ভিতরে লুকিয়ে থাকা রহস্য। ফ্যারাও কিংবা মিশরীয় সম্ভ্রান্তদের মমি। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে থেকে এমনই অদ্ভুত রীতিতে মানুষকে সমাধিস্থ করা চল ছিল মিশরে। তবে মমি তৈরির ক্ষেত্রে মিশরীয়দের থেকেও এগিয়ে ছিল চিলির চিনচোরা গোষ্ঠীর মানুষরা। হ্যাঁ, দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশই বিশ্বের প্রাচীনতম মমিদের (Oldest Mummies) আবাসস্থল।

উত্তর চিলি (Chile) এবং দক্ষিণ পেরুর আতাকামা মরভূমি ছিল চিনচোরাদের আবাসস্থল। ‘আতাকামার পথপদর্শক’ হিসাবেও অভিহিত করা হয় তাদের। মায়া কিংবা অ্যাজটেকের থেকেও প্রাচীন চিনচোরাদের এই সভ্যতা এবং রীতি-রেওয়াজ। এখনও পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, তাঁদের হাত ধরেই প্রথম মমি তৈরির প্রচলন হয়েছিল পৃথিবীর বুকে। চিলির এই মরুভূমিতে প্রাপ্ত প্রাচীনতম মমির বয়স ৭ হাজার বছরেরও বেশি। 

বিশ শতকের শেষের দিকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল চিনচোরাদের এই প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র। ২০২১ সালে মমি-প্রথার জন্য ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা পায় চিলির আতাকামা মরুভূমি। তবে মমি তৈরি এবং প্রাচীন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার এই অনুশীলন সম্পর্কে বহু আগে থেকেই ওয়াকিবহাল ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

তবে মিশরের মমির সঙ্গে চিনচোরাদের এই মমির বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। মিশরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মমি রাখা হত কাঠের কফিনে। সেইসঙ্গে কফিনের মধ্যে বা সমাধিকক্ষে রাখা হত একাধিক সামগ্রী। বিশ্বাস ছিল, মৃত্যু-পরবর্তী জীবনে সেগুলিই ব্যবহার করে মানুষ। তাছাড়া মমি তৈরির সময় হৃদপিণ্ড ছাড়া সমস্ত অঙ্গই বার করে নেওয়া হত মৃতদেহ থেকে। এই সমস্ত প্রথাই অনুপস্থিত চিনচোরাদের সংস্কৃতিতে। এমনকি ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র এক-দু মিটার গভীরেই মমির সমাধি দিত তারা। 

আরও পড়ুন
মমির বাক্সে বন্দি ভারতের সংবিধান!

কিন্তু কীভাবে হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেল এমন একটি বর্ণময় সভ্যতা? বহিরাগতদের আক্রমণ নাকি অ্যাজটেকদের মতো অন্তর্দ্বন্দ্ব? না, কোনোটাই নয়। চিনচোরাদের মধ্যে উচ্চ মৃত্যুর হারই এই সভ্যতার অবলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আতাকামা থেকে প্রাপ্ত মমিগুলির বিশ্লেষণে জানা যায়, জীবদ্দশায় সারা গায়ে ম্যাগনেশিয়াম দিয়ে নকশা আঁকতেন চিনচোরারা। যা ক্রমাগত বিষক্রিয়া ঘটিয়ে চলত তাঁদের শরীরে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের মাটিতে আর্সেনিকের আধিক্য দূষিত করে তুলেছিল পানীয় জলকেও। ধীরে ধীরে এই ঘটনাই অস্তিত্ব মুছে দেয় চিনচোরাদের। 

আরও পড়ুন
মিশরীয় সভ্যতারও ২০০০ বছর আগে মমি! কারা বানাতেন সেসব?

তবে শুধু চিলির সরকারই নয়, প্রাচীন এই সভ্যতার নিদর্শন সংরক্ষণে যথেষ্ট সচেতন চিলির সাধারণ মানুষও। বিগত এক দশকে একাধিক নির্মাণকার্যের সময় প্রকাশ্যে এসেছে চিনচোরা মমির অস্তিত্ব। কোথাও বন্ধ রাখা হয়েছে নির্মাণকাজ, কোথাও আবার সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটিকেই বানিয়ে ফেলা হয়েছে মিউজিয়াম। কিন্তু তা সত্ত্বেও আতাকামার এই প্রাচীন মমিদের সম্পর্কে কতটুকুই বা জানেন বিশ্ববাসী? 

আরও পড়ুন
মমির মুখে সোনার জিভ! কফিনের ঢাকনা খুলতেই অবাক প্রত্নতাত্ত্বিকরা

Powered by Froala Editor