সংকটে গঙ্গা, সিন্ধু; ২০৫০-এর মধ্যে দেখা দেবে জলাভাব!

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে চর্চা চলছে গোটা বিশ্বেই। কিন্তু বিশেষ করে ভারতে তার আঞ্চলিক প্রভাবের মাত্রা ঠিক কী হবে, এবার তা প্রকাশ্যে এল জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আইপিসিসি’র সাম্প্রতিকতম প্রতিবেদনে। জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate) জেরে ২০৫০ সালের মধ্যেই তীব্র জল এবং খাদ্য সংকটের (Food and Water Crisis) শিকার হতে চলেছে গঙ্গা, সিন্ধু এবং আমু দরিয়া উপত্যকা। তাছাড়াও চরম প্রাকৃতিক অবস্থার জন্য গৃহহীন হতে চলেছেন কোটি কোটি ভারতীয় নাগরিক। 

ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশই তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশ। আর এই চরম দারিদ্র এবং বৈষম্যই মারাত্মক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অনেকটা দায়ী। আইপিসিসি’র এই রিপোর্টে উঠে আসছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রশ্ন থেকে যায় দারিদ্র কীভাবে শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের? 

পরিসংখ্যান বলছে ভারতে শহরাঞ্চলে বসবাস করেন ৪৮ কোটির বেশি মানুষ। এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই শহরের সাধারণ ধারণ ক্ষমতার থেকে এই জনসংখ্যা অনেকটাই বেশি। ঘিঞ্জি বাসস্থান এবং অন্যান্য কার্যকলাপের ফলে ক্রমাগত বাড়ছে শহরগুলির কার্বন ফুটপ্রিন্ট। যা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করছে আঞ্চলিক জলবায়ুকে। যার ফলে ক্রমশ উষ্ণতা বাড়ছে সিন্ধু ও গাঙ্গেয় উপত্যকায়। আর সেই প্রভাব ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান ভারতের বুকে। 

সাধারণত, জলবায়ু পরিবর্তন কতটা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, তা বোঝার জন্য ব্যবহৃত হয় ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা পরিমাপক। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে নদী এবং অন্যান্য জলাধারের বাষ্পীভবনের হার নির্ণয় করা হয় এই পদ্ধতিতে। আর এই মূল্যায়নই জানাচ্ছে, বর্তমানে ভারতে ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। যেখানে প্রথম বিশ্বের, এমনকি ইউরোপের শিল্পনির্ভর দেশগুলিতেও এই তাপমাত্রা ২৫-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

আরও পড়ুন
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে পারমাণবিক বিদ্যুতের দাবি

এই অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে যেমন একদিকে দ্রুত গতিতে গলছে হিমবাহ, তেমনই গঙ্গা এবং সিন্ধু উপত্যকায় জলস্রোত বাড়ায় দেখা দিচ্ছে বন্যা। তবে বরফ এই হারে গলতে থাকলে অল্প দিনের মধ্যেই শুকিয়ে আসবে উত্তর ভারত থেকে জন্ম নেওয়া নদীগুলি। দেখা দেবে জল সংকট। সেচের অভাবে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যসংকটেরও সম্মুখীন হবে ভারত। অন্যদিকে ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে প্রভাবিত হচ্ছে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ। যা একাধিক ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অন্যতম কারণ। ওয়েট-বাল্ব সমীক্ষা জানাচ্ছে এমনটাই।

আরও পড়ুন
তুষারপাতের পরিবর্তে বৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার মেরু অঞ্চল

পরিসংখ্যান বলছে ২০১৯ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত চরম প্রাকৃতিক অবস্থার জন্য বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি মানুষ। গবেষকদের অনুমান, ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যাটা পৌঁছাতে পারে ৪.৫-৫ কোটিতে। অর্থাৎ, প্রায় ৪ গুণ বৃদ্ধি পাবে প্রকৃতির ভয়াবহতা। পাশাপাশি তার জন্য প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে ভারত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্বন নির্গমনের হার কমিয়ে আনাই এখন একমাত্র হাতিয়ার। আর সেই ব্যাপারেই সতর্ক করছেন গবেষকরা। কিন্তু আদৌ কি এই রিপোর্ট নজর টানবে প্রশাসনের? জানা নেই উত্তর…

আরও পড়ুন
শুকিয়ে যাচ্ছে হিমবাহ, ভাঙছে গ্রামের ঐক্যও; জলবায়ু পরিবর্তনের কোপ কাশ্মীরে

Powered by Froala Editor