মানুষ নয়, অ্যাডির্নোডাক জঙ্গলকে সংকটে ফেলেছে ছোট্ট বীবর

অনেকেই মনে করেন মানুষ আসার আগে পর্যন্ত বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা পেত ঠিকভাবে। মানুষ এসেই তার ভারসাম্য বিঘ্নিত করল। নিজের প্রয়োজনে লাগাতে শুরু করল প্রকৃতিকে। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হল, শুধু মানুষই নয়। এই পৃথিবীতে আরও এমন প্রাণী আছে যারা নিজেদের প্রয়োজনে প্রকৃতিকে ব্যবহার করে। সেইসঙ্গে বাস্তুতন্ত্রের যথেষ্ট ক্ষতিও করে থাকে তারা। ঠিক তেমনই একটি প্রাণী হল বীবর। তাদের অদ্ভুত ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার কথা আগেই জানা ছিল। কিন্তু তার ফলাফল প্রমাণিত হল অ্যাডির্নোডাক জঙ্গলের পরিণতি দেখে। সম্প্রতি সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সানি কলেজ অফ এনভারমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ফরেস্ট্রির ছাত্রছাত্রীরা।

কয়েক’শ বছর ধরে আমেরিকার বুকে টিকে আছে অ্যাডির্নোডাক জঙ্গল। আর সেই জঙ্গলের এক পুরোন বাসিন্দা হল বীবর। বিগত ১০০ বছর ধরে তাদের সংরক্ষণের জন্যও নানারকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর এটাই মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সানি কলেজের ছাত্রী স্টেলা। আরেক ছাত্র ম্যাহোনিও দেখাচ্ছেন, অ্যাডির্নোডাক জঙ্গলের জলাভূমির ধারের প্রায় ৮০ শতাংশ গাছ কেটে ফেলে বীবর। আর তার ফলে নতুন গাছের জন্মের উপযুক্ত পরিবেশও তৈরি হয় না। এভাবে জঙ্গলের বিভিন্ন পাখি, ইঁদুর এবং অন্যান্য প্রাণীদের অস্তিত্বও সংকটের মুখে পড়েছে।

তবে এর মধ্যে আশার কথা হল, বহু পরিবেশবিদের নজরে এসেছে অ্যাডির্নোডাক জঙ্গলের পরিস্থিতি। তাঁরা জঙ্গলের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। যদিও প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্ত প্রকল্প নিতে হবে বীবরের অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রেখেই। তবে তারা যেন এর পর আর বাস্তুতন্ত্রের কোনো ক্ষতি করতে না পারে সেদিকেও নজর দেওয়া হবে। তবে অনেক প্রাণী বিশেষজ্ঞ এখনও মনে করছেন, বীবর তার বেঁচে থাকার প্রয়োজনে মানুষের মতোই বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তন ঘটায় একথা ঠিক। কিন্তু সেটা কখনোই মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। হয়তো সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল থেকে গিয়েছে বলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

Powered by Froala Editor

আরও পড়ুন
কলম্বিয়ার জঙ্গল বাঁচাতে বিজ্ঞানীদের সহায় প্রাক্তন গেরিলারাই