প্রয়াত গণমানুষের কবি ভঙ্গপান্ডু প্রসাদ রাও, শোকের ছায়া অন্ধ্রপ্রদেশে

বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই একের পর এক বিদায় নিচ্ছেন বহু কিংবদন্তি। তাঁদের অনেকের চিন্তার সূত্র ধরেই ভারতবর্ষ ভাবতে শিখেছিল নতুনভাবে। ঠিক এমন মন খারাপ করা পরিস্থিতিতেই এলো আরেকটি মৃত্যুসংবাদ। মঙ্গলবার সকালে অসংখ্য বিতর্ক ও ভালোবাসাকে পিছনে ফেলে বিদায় নিলেন অন্ধ্রের কবি ভঙ্গপান্ডু প্রসাদ রাও। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

১৯৪৩ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের পেড়াবোন্দাপ্পালি গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম ভঙ্গপান্ডুর। শৈশব থেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন রাজনীতির উত্তাল সময়। প্রথমে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং ক্রমশ শ্রমিক-কৃষকের আন্দোলন। তারপর সেখান থেকেই জন্ম নেয় তেলেঙ্গানার মুক্তির সংগ্রাম। সময়ের ডাকে তাই সাড়া না দিয়ে পাড়েননি ভঙ্গপান্ডু। তাঁর লেখায় বারবার উঠে এসেছে মেহনতি মানুষের দাবির কথাই।

তবে এই রাজনৈতিক পরিসরের কাছে কখনো তাঁর শিল্পকে বিক্রি করে দিতে রাজি ছিলেন না তিনি। বরং শিল্পের ভিতর দিয়েই মুক্তির দিশা খুঁজেছিলেন কবি। তাঁর লেখা কবিতা গান হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মুখে মুখে। তিনি নিজেও একাধিক অনুষ্ঠানে সেইসব গান পরিবেশন করেছেন। ‘জাজ্জানেকা জানারে’, ‘ইয়েন্ত্রামেত্তা নাদুস্থুবুন্দন্তে’ প্রভৃতি গান যেন আজও অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার মানুষের কাছে সমান প্রাসঙ্গিক। তেমনই ইংরেজি অনুবাদে তাঁর গান ‘ভোড়া নুভিল্লি’ (ও শিপ, ডোন্ট গো) ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলিতেও।

সত্তরের দশকে বামপন্থী রাজনীতির মোড় বদলের প্রত্যক্ষ্য সঙ্গী থেকেছেন ভঙ্গপান্ডু। গাদ্দার এবং বি. নারশিং রাওয়ের সঙ্গে মিলে ১৯৭২ সালে তৈরি করেছেন জননাট্য মণ্ডলী। আবার তাঁর ‘এম্মি পিল্লোই ইয়েলদামোৎসব’ গানের রিমিক্স নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন তাঁর একদা সহকর্মীরাই। তবে এসবের মধ্যেও শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের অধিকারের দাবি নিয়ে লড়াই করে গিয়েছেন কবি। এমনকি লকডাউনের সময়েও শিল্পীদের সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে। তবু তাঁর মৃত্যুর পর সংসারের আর্থিক দুরাবস্থার কথাও শোনা গিয়েছে। সরকারের কাছে কবির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন বঙ্গলা দালি নাইডু।

জীবন সায়াহ্নে এসে ২০১৭ সালে তাঁর সারাজীবনের কাজের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন ভঙ্গপান্ডু রাও। অন্ধ্র সরকার তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিল কলারত্ন পুরস্কার। কিন্তু তাঁর ৪০০-র বেশি গান এবং অসংখ্য মঞ্চাভিনয় ও স্ট্রিট পারফর্ম্যান্সের প্রকৃত মূল্য হয়তো আছে মানুষের ভালোবাসার মধ্যেই। কবির মৃত্যুর পরেও তাঁর সেইসব সৃষ্টি থেকে যাবে। আর থেকে যাবে এক শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন। যে স্বপ্নকে হাতিয়ার করে এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কবির কন্যা ভঙ্গপান্ডু উষা এবং দেশ-বিদেশের আরও অনেক শিল্পী।

Powered by Froala Editor

আরও পড়ুন
কম্পিউটার মাউসের সহ-স্রষ্টা তিনি, নীরবেই চলে গেলেন কিংবদন্তি ইঞ্জিনিয়ার বিল ইংলিশ